সারসংক্ষেপ
নিকট অতীত: অমর একুশ! ফেব্রুয়ারীর প্রাক্কাল। মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯। “বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অফ্ গ্রেটার হিউস্টন” এর পরিবেশনায় ছিল “আমাদের ভাষা আমাদের অহংকার।”। বাংলাদেশের একুশ উদযাপনের প্রাক্কালে হিউস্টন মেগাসিটির মহারাজা হলে “বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অফ্ গ্রেটার হিউস্টন” এর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জমায়েত হন । প্রভাত ফেরীর জন্য সমগ্র গ্রেটার হিউস্টনবাসী পুষ্পস্তবক নিয়ে প্রস্তুত এবং যথারীতি প্রভাত ফেরী শুরু হয় সকাল ১০ টায় । একটিই উদ্দেশ্য ৫২'র ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন। শুরুতে “বোর্ড অব ডাইরেকটরস” শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর সাধারন জনগনের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে রাখা হয়। শুরুতেই বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সমগ্র জনগণ দাড়িয়ে দুই দেশের পতাকাকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এর পরই শহীদদের জন্য ও সম্প্রতি প্রাণহানির জন্য এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয় । তার পর পরই শুরু হয় বক্তব্য ও পরিশেষে কালচারাল প্রোগ্রাম । কালচারাল প্রোগ্রামের মধ্যে ছিল নাচ, একাঙ্কিকা, গান, কবিতা, কোরাস গান ইত্যাদি। সার্বিক তত্তাবধানে ছিলেন সোসাইটি। USA এর এই পুরা প্রোগ্রাম টা গ্রেটার হিউস্টন এর সংগঠন “বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন” তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হলেও, জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল একটু বেশী । আমি তিন বছরের ডিরেক্টরশিপ এর মধ্যে দুই বার ই জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছি।
Gaps between Generation to Generation: নর্থ আমেরিকার অনেক শহর ঘুরেছি এবং দেখেছি। একুশে ফেব্রুয়ারী হোক, আর পহেলা বৈশাখ হোক। সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠন, ধর্মীয় সংগঠন মিলে একুশ উৎযাপন করছি। দুঃখজনক হলেও সত্যি! হাতে গোনা দু’ একজন ছাড়া 2nd Generation কাউকে তেমন দেখা যায় নাই। Whereas, আমরা কিন্তু American সহ অন্য দেশী ও ভাষা ভাষীদেরকে নিয়েই একুশ উৎযাপন করেছি। যেহেতু বাংলা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রশংসিত। বাবার সাথে ছেলের Communication Gap কমানো যায় ছেলের ছোট কাকা বা ছোট মামার মাধ্যমে। Jig Jag এর মাধ্যমে। তেমনি কমানো যায় BUETian বাবার সাথে দশ, পনেরো বা বিশ বছরের Junior BUETian এর মাধ্যমে।

প্রেক্ষাপট 20২৬: BUETian সহ সকল প্রবাসী বাংলদেশী কানাডা এর বিভিন্ন শহরের মত টরন্টো শহরে এবং ভ্যানকুভার শহরে ও কানাডা এর পক্ষ থেকে সবাইকে মহান ২১ এ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তির পর তৎকালীন পাকিস্তানে ভাষা প্রশ্ন একটি বড় রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গড়ে ওঠে ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালের এ দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষাকরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল রফিক, সালাম, বরকত, সফিউর জব্বাররা। তাদের সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশীরা পেয়েছে নিজস্ব ভাষার মর্যাদা ও অধিকার। তাই এক পর্যায়ে দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করেছে। আমরা পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা নিজের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছিলাম | বর্তমানে সারা বিশ্বে দিনটি উদযাপিত হয়। তাঁদের আত্মত্যাগ ভাষার অধিকার আন্দোলনে বিশ্বব্যাপী এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সাল। পাকিস্তান অধিকৃত বাংলাদেশ উত্তাল। পাকিস্তান ঘোষণা ক'রেছে, উর্দু হবে রাষ্ট্রীয় ভাষা। খাওয়াজা নাজিমুদ্দিন, তৎকালীন বাংলাদেশের গভর্নরের ঘোষণায় এমনটিই ছিল। উত্তাল হয়ে উঠলো বাংলাদেশ। ফিরিয়ে দিতে হবে মাতৃভাষার অধিকার, ফিরিয়ে দিতে হবে আমজনতার ভাষার অধিকার। জারি হল ১৪৪ ধারা। মানলো না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, মানলো না ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র, ছাত্রী, ডাক্তার, নার্সরা, মানলো না কোন রাজনৈতিক দল, মানলো না বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ।এই দিনেই মাতৃভাষার জন্য রাজপথে জীবন দিতে হয়েছিল সালাম, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরো অনেকেই। তাদের জন্যই আজকে আমরা মন খুলে বাংলা বলছি, লিখছি। বিশ্বের ইতিহাসের বুকে মাতৃভাষার জন্য বীরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলাম আমরা এই বাঙালীরাই।
ভাষা আন্দোলনের প্রভাব: ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার স্বীকৃতি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাধিকার আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে। একুশ আমাদের আত্মমর্যাদাশীল করেছে। একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদ, যাবতীয় গোঁড়ামি আর সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে শুভবোধের অঙ্গীকার, একুশ মানে সত্যের পথে এগিয়ে যাওয়া।
মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠির প্রভুসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। এদের কারণেই, আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না । কেননা বরকত সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমৃতের স্পর্শ দিয়ে গেছে। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’।
মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে বাঙালি জাতি যে ইতিহাস রচনা করেছিল, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্ব তাকে বরণ করেছে সুগভীর শ্রদ্ধায়। ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বিশ্বের সকল জাতিসত্তার ভাষা রক্ষার দিন হিসেবে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয় বাঙালি জাতির ভাষার জন্য লড়াইয়ের দিন সেই একুশে ফেব্রয়ারিকে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের ৩০তম সম্মেলনে ২৮টি দেশের সমর্থনে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে এক যোগে এই দিবসটা পালিত হচ্ছে। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙ্গালী জাতির জন্য এক অনন্যসাধারণ অর্জন।
আ-জ আমরা প্রানভরে বাংলায় কথা বলি, গলা ভরে বাংলায় গান গাই, বাংলায় কাঁদি, বাংলায় হাসি! যাদের জীবন উৎসর্গের বিনিময়ে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করতে পেরেছি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি নিজস্ব ভাষার মর্যাদা ও অধিকার। সেই সর্বজন শ্রদ্ধেয় শহীদ ভ্রাতা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার দেরকে গভীরভাবে স্মরণ করি। আরও স্মরণ করি সংশ্লিষ্ট অনেককেই যারা ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীর সমসাময়িক সময়ে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছে।
কবর কবিতার একটা পংতি প্রায়ই মনে পড়। "যখন যাহারে জড়িয়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি। " এইটা ছিল একটা নেগেটিভ ন্যারাটিভ। কিন্তু আমি সব সময় হাফ এম্পটি গ্লাস কে হাফ ফুল গ্লাস বলতে পছন্দ করি । আমার মরহুম আম্মাজান প্রায়ই বলতেন, যে খেলতে পারে সে কানাকড়ি দিয়েও পারে, আর যে পারে না, তাকে রাজার ভান্ডার দিলেও পারে ন। কথাটা আমি মনে প্রাণে খুবই বিশ্বাস করি এবং ধারণ করি। তাই পৃথিবীর যখন যেখানে গিয়েছি, সেখানেই নিজের মতো করে পরিবেশ গড়ে তুলেছি। টরন্টো শহরে থেকে ছেলেদেরকে বাংলা শিখিয়েছি। মায়ামি শহরে গিয়েও বাংলা শিখিয়েছি। হিউসটন মেগাসিটি তে গিয়েও বাংলা শিখিয়েছি। ভ্যানকুভার শহরে এসে যখন বাংলাদেশী কম্মুনিটির লোকজনের সাথে কথা হয়, তখন তারা বলে, আপনারা বোধ হয় বাংলাদেশ থেকে নতুন এসেছেন তাই আপনাদের ছেলেরা ভালো বাংলা বলতে পারে। কিছুদিন যাক, দেখবেন ওরাও বাংলা ভুলে যাবে। কিন্তু যখন শুনে, আমরা ২০০১ সাল থেকেই নর্থ আমেরিকা তে থাকি, তখন কবিরা হয়ে যায় নীরব। কিন্তু আমরা বলি এটার কৃতিত্ব আমাদের একার না। কৃতিত্বের অনেকটাই দাবি রাখে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি প্রবল টান, আকর্ষণ, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা।
একসময় আমাদের ঐতিহ্য ছিল গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ, আর গলা ভরা গান। আর কিছু না পারলেও ধরে রাখতে পারি গলা ভরা গান। বিদেশের মাটিতে আমরা ধরে রাখতে পারি বাংলা কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, ছোট গল্প ইত্যাদি। ধরে রাখতে পারি বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য । কেন জানি বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বাংলা ভাষার সাথে সাথে আতিথেয়তা ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যাদের নিকট আত্নীয় সজন থাকে না, বাংলা দেশীরাই তাদের আত্নীয় সজন হয়ে যায়।
আমাদের বাংলাদেশী নর্থ অ্যমেরিকান বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই বলে থাকেন, “আপনার 3rd Generation পর্যন্ত যদি কোনোভাবে বাংলাকে ধরে রাখতে পারেন, that’s your Great and Extreme Achievement!”. কেউ কেউ বলে আরও উচ্ছসিত হন, “আমার বাচ্চারা বাংলা দেখে পড়তে পারে।” কেউ বলেন, বাংলা ধরে রাখতে, ছেলেমেয়েদেরকে সাথে নিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে দু-একটা বাংলা নাটক দেখবেন। বাংলা স্কুল ও বাংলা কমিউনিটির মধ্যে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়া ইত্যাদি চালু রাখবেন। অনেকে বলেন, “বাংলাদেশে দাদা-দাদী বা নানা-নানী, চাচা-ফুপী বা আত্নীয়দের সাথে সপ্তাহে কমপক্ষে হলেও পাঁচ মিনিটের জন্য বাংলায় কথা বলাবেন।” কেউ কেউ আবার যুক্তি দেখিয়ে বলেন, “আপানি ছেলেমেয়েদেরকে বাংলায় কথা বলাতে বাধ্য করে, তাঁদের অধিকার নষ্ট করছেন। বাংলা আপনার মাতৃভাষা হতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন বাংলা কিন্তু তাঁদের মাতৃভাষা নহে।” It’s one way journey. আপানি ভুল করেছেন, কিন্তু সেজন্য তাদেরকে কেন মাশুল দিতে হবে?
১৯৯৯-২০০০ সালের কথ। আমি তখন Singapore এ তখন Singapore Bangladesh Society (SBS) এর Finance Director. SBS এর ব্যানারে সর্বসাধ্য চেষ্টা করে বাংলা কে সরকারী ভাবে Syllabus Curriculum এর মধ্যে সন্নিবেশিত রাখতে পেরেছি। Toronto তে TDSB (Toronto District School Board) এর একটা Middle School এ PTO President থাকাকালীন সময়ে, সর্বসাধ্য চেষ্টা করে বাংলা কে 2nd Language হিসেবে School Board Syllabus এ Include করতে পেরেছি। Obviously, these are all great Achievements!
বাংলাতে কথা বলতে পারা যে ভীষণ মজা তাঁর একটা উদাহরণ। বেশ কয়েক বছর আগে গেলাম এক মসজিদে। ছেলেদের কুরআন শেখানোর জন্য। বাংলাদেশী ভদ্রলোক! বিয়ে করেছেন পাকিস্তানী ভদ্রমহিলাকে। উর্দূ কথা বলতে বলতে উনি Fade up হয়ে পড়েছেন। মনে হল যেন অনেকদিন পরে আমার সাথে বাংলাতে কথা বলতে পেরে উনি নিজের জীবন ফিরে পেয়েছেন।
ভাষা মানুষের চিন্তা, জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রধান বাহক। মাতৃভাষা ব্যক্তির পরিচয় গঠনে এবং সামাজিক যোগাযোগে মৌলিক ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাতৃভাষার অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভাষাভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। এই প্রবন্ধে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শিক্ষায় মাতৃভাষার ভূমিকা, বৈশ্বিক ভাষা সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। মানবসভ্যতার বিকাশে ভাষা একটি অপরিহার্য উপাদান। ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মূল্যবোধের ধারক। মানুষ ভাষার মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা, আবেগ ও জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তর করে। মাতৃভাষা সেই ভাষা, যার মাধ্যমে মানুষ প্রথম বিশ্বকে চিনতে শেখে। মাতৃভাষা মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু। একটি ভাষার সঙ্গে যুক্ত থাকে লোকসংগীত, প্রবাদ, লোককথা, ধর্মীয় আচার এবং সামাজিক রীতিনীতি। মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে কেবল একটি ভাষা নয়, একটি সম্পূর্ণ সংস্কৃতি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বের সকল মানুষের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি দিন। এই দিনটি বাঙালি জাতির মাতৃভাষা বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পালিত হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বের সকল মানুষের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি দিন। এই দিনটি বাঙালি জাতির মাতৃভাষা বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পালিত হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ভাষাগত অধিকার ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা মানেই মানবসভ্যতার বহুত্ববাদী চরিত্র রক্ষা করা।
মাতৃভাষা ও শিক্ষা: শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা মাতৃভাষায় হলে শিক্ষার্থীর শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বাড়ায়।
আধুনিক বিশ্বে বহুভাষিক শিক্ষা অপরিহার্য। মাতৃভাষার ভিত্তির ওপর অন্যান্য ভাষা শেখা অধিক কার্যকর। সেই সময় আমরা জেনেছি ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ১৮ তা ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। জাপানি ভাষাতে তে আমি A+ পেয়েছি এবং মালয় ভাষায় ও A+ পেয়েছি। তার মানে এই নয় যে আমি বাংলা ভুলে বসে আছি। আমাদের next generation জন্য দরকার Strong motivation based on their Capacity, Resources and Optimization. Then we will be successful to keep our heritage language.
মাতৃভাষার প্রতি বাংলাদেশীরাই ক্যামন টান তা নর্থ-অ্যমেরিকার কয়েকটা কাহিনী দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি। USA এর অনেক গুলো মসজিদে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেখা গ্যাছে পাকিস্তানীরা অবলীলায় আমাদের সাথে উর্দু ভাষায় কথা বলা শুরু করে দেয়। BUET এর আমাদের অনেকগুলো বন্ধু বান্ধব মিলে প্রতিশোধ প্রবন হয়ে দেদারসে ওদের সাথে বাংলায় কথা বলা শুরু করে দিয়েছি। মজাও নিয়েছি।
Dacca কে যখন বিদেশীরা ড্যাক্কা উৎচারণ করতো, তখন মনে হতো আমাদের রাজধানী শহর নিয়ে কেউ যেন ধাক্কা ধাক্কি করছে। এখনও বিভিন্ন Airlines কে Dacca ব্যবহার করতে দেখে বিরক্ত হয়েই চলেছি। কে ঠিক করবে, কবে ঠিক করবে তাঁর কোন কূল কিনারা নাই। Dacca (ড্যাক্কা) কে Dhaka (ঢাকা) বানাতে তখনকার স্বৈরশাসক এরশাদ সাহেবের হয়তবা President না হলেও চলতো। Calcutta (ক্যলকাট্টা) হল কোলকাতা এবং Bombay (বোম্বে) হল মুম্বাই । স্থানীয়রা যে নামে ডাকে, সেটাই তাঁর আসল নাম। BUT কে বাট বলি, বুট বলি না আবার একই ফর্মুলায় PUT কে পুট বলি, পাট বলি না। তবে বাংলাদেশ কে বাংলাদেশ বলা বাদ দিয়ে কেন ব্যঙ্গলাদেশ নামে ডাকতে হবে? এর কোন প্রতিবাদ তো দূরের কথা। নিজেরাই যেন বাংলাভাষীদের মধ্যে সংখ্যালঘু হিসেবে অবস্থান নিয়ে চলেছি। BUET এ অধ্যায়্নকালীন সময়ে বন্ধুবান্ধবদের কাউকে না কাউকে মাঝে মধ্যে Calcutta কে কালোকুত্তা বলে ব্যঙ্গ করে Joke করতে শুনেছিলাম। সময় মত প্রতিবাদ ও করেছি। Joke করার অধিকার সবারই আছে কিন্তু অন্য কাউকে হেয় করা বা নীচে নামানোর স্বাধীনতা কাউকে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে জেনে অনেক খুশী হয়েছি যে Calcutta (ক্যলকাট্টা) কে তখন থেকে কোলকাতা উচ্চারণ করতে হবে বা কোলকাতা নামে ডাকতে হবে, ক্যলকাট্টা বলা যাবে না বা লেখা যাবে না। বাংলাদেশ কে যারা ব্যঙ্গলাদেশ বলে উচ্চারণ করে বা ডাকে, তখন মনে হয়, বাংলাদেশকে যেন হ্যাংলাদেশ বানিয়ে মনে মনে Tease করছে। তবুও স্বান্তনা পাওয়া যেতে পারে এইভেবে যে, “Yes Sir- যেমন ঈয়েশ শার” হয়ে গেলেও আমরা mind করি না, এই জেনে যে তারা উচ্চারণ করতে পারে না।
আর যখন কোন বাংলাদেশীরা আমাদের বাংলাদেশ কে ব্যঙ্গলাদেশ বলে বা উচ্চারণ করে তখন লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। আমরা ক্ষমা করলেও, বরকত, সালাম, রফিক ও জব্বার রা তাদেরকে কোনদিনও ক্ষমা করবে না। “একুশ” জন্ম হয়েছে বাংলাদেশীদের মাথা উচূ করে দাঁড়ানোর জন্য। একুশ মানে মাথা নত না করা। কোন ভাষা বা সংস্কৃতির কাছে কদম বুচি বা তোয়াজ না করা।
প্রযুক্তি ও ভাষা সংরক্ষণ: ডিজিটাল মাধ্যমে মাতৃভাষার ব্যবহার বাড়ানো ভাষা সংরক্ষণের একটি কার্যকর উপায়।
ভবিষ্যৎ করণীয়: মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, বিপন্ন ভাষার নথিভুক্তকরণ এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। ভাষা আন্দোলন অনুপ্রেরণায় আগামীর বাংলাদেশ এর মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ এ পরিণত হবে। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। সবার দাবি যেন হয় বাংলা ভাষাকে নর্থ অ্যামেরিকাতে স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, এরাবিক, পাঞ্জাবি, ম্যান্ডারিন, বা টার্কি ভাষার মতঃ ৩য় বা অলটারনেটিভ ভাষা হিসাবে স্কুল ডিস্টিরিক্ট বোর্ডে অন্তরভুক্ত ভুক্ত করানো যায়।
এনালাইসিস করলে আমরা দেখতে পাই যে বৈশ্বিক ভাষা সংকটের কবলে পড়ে বাংলা কেও আমরা একদিন হারিয়ে ফেলবো । বিশ্বে প্রায় সাত হাজার ভাষা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির আধিপত্য এই সংকটকে আরও গভীর করছে। যাই হোক, বাস্তবতা হলো বাংলাকে আমরা হারিয়ে ফেলছি। প্রতিদিন একটু একটু করে। 3rd Generation এর পরে বাংলাকে খুঁজে পাওয়া একেবারেই Impossible হয়ে যাবে। Car Driving এর সময় Reverse Drive বা Brake কে উদাহরণ হিসাবে নিতে পারি। বাংলাকে ধরে রাখতে রাখতে হারিয়ে ফেলার তিনটা ধাপ লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা। যদি ধরে নিই, ১৫০ বছরে আমাদেরকে শেষ সম্বল বাংলা বলাটাকেও সমাহিত করা হয়ে যাবে, তখন আমাদের Static Target ১৫০ বছরকে কোনোভাবে যদি ১ বা ২ বছর পিছিয়ে ১৫১ বা ১৫২ বছরে উন্নীত করতে পারি সেটা হতে পারে আমদের জন্য এই ১ বা ২ বছর যেন Luxury, Enjoyable and Comfortable Vacation Package এর ৩৬৫ বা ৭৩০ দিনের বিশাল লম্বা একটা Grand Gift। হতে পারে কিছুটা সামধানঃ প্রত্যেকেই তাঁদের নিজেদের জন্য আলাদা আলাদা করে Static Target এর পরিবর্তে Dynamic Target সেট করে নিয়ে “বাংলা হারানো” কে পিছানো শুরু করতে সচেষ্ট থাকা। যেন নর্থ অ্যমেরিকায় এসে বাংলাকে একেবারেই স্বহস্তেই সমাহিত করতে না হয়।
শৈশবে স্কুলজীবনে অনেকবার পড়েছি একটা ইরেজি প্রবাদ, “A drowning man catches at a straw". BUET এর তিন ঘন্টার পরীক্ষার অথবা জীবনের শেষ তিরিশ বছরের পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের একটা মিনিট মাত্র বাকি। একটা মাত্র বাংলা শব্দ শেখানোর অপশন যেন রয়েছে আমার হাতে। জীবনে কখনোও ছেলেমেদেরকে বাংলা শিখানোর সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি। ডুবন্ত মানুষের খড় কুটা আঁকড়ে ধরার মতো, আমাদের মধ্যে যারা এখনও শুরু করেন নাই অথবা হাল ছেড়ে দিয়েছেন, তারা যেন আবার শুরু করেন এটা বলে “শেষ সুযোগটা হাত ছাড়া করতে রাজি নই আমি কোনোভাবেই । তাই জীবন সায়াহ্নে এসে একটা বাংলা শব্দ হলেও শিখিয়েই আমি আমার জীবনটাকে ধন্য করব।”
Comments 0
No comments yet. Be the first to comment!
Sign in to leave a comment.